অধ্যাপক ইকবাল হোসেন বাংলাদেশের একজন স্বনামধন্য শিক্ষাবিদ, অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) বর্তমান সাধারণ সম্পাদক। ২০১৯ সালের দলীয় কাউন্সিলের পর জাগপা সভাপতি ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানের নির্দেশনায় তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও অত্যন্ত নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করে নিজের রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রমাণ রেখেছেন। রাজনীতি ও শিক্ষকতার এক বিরল সমন্বয় অধ্যাপক ইকবাল হোসেন দেশে ইনসাফ ও ন্যায়বিচারভিত্তিক একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
সাধারণ সম্পাদক
অধ্যাপক ইকবাল হোসেন
জন্ম ও পারিবারিক পরিচিতি
১৯৬৩ সালের ২১ এপ্রিল ঠাকুরগাঁও মহকুমার তৎকালীন কায়েদে আজম মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ সড়কের (বর্তমান কলেজ রোড) মাতুলালয়ে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস উত্তরবঙ্গের ঠাকুরগাঁও জেলায়। তাঁর পিতা মরহুম লতিফ ছিলেন একজন চাকরিজীবী এবং মাতা মরহুমা আনোয়ারা বেগম ছিলেন রত্নগর্ভা গৃহিণী।
শিক্ষাজীবন
পারিবারিক কারণে শৈশবে তিনি ঠাকুরগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও জিলা স্কুল এবং জয়পুরহাট স্কুলে পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৯ সালে সেতাবগঞ্জ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ১৯৮১ সালে দিনাজপুরের সেতাবগঞ্জ কলেজ থেকে এইচএসসি কৃতিত্বের সাথে উত্তীর্ণ হন। এরপর তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকর্ম বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে ১৯৮৫ সালে সম্মান (অনার্স) এবং ১৯৮৭ সালে স্নাতকোত্তর (মাস্টার্স) ডিগ্রি অর্জন করেন।
কর্মজীবন
ছাত্রজীবন শেষে সমাজ গঠনের ব্রত নিয়ে তিনি শিক্ষকতাকে মহান পেশা হিসেবে বেছে নেন। ঢাকার উত্তরায় অবস্থিত উইমেন্স কলেজে সমাজকল্যাণ বিভাগে যোগদানের মাধ্যমে তাঁর শিক্ষকতা জীবনের সূচনা হয়। পরবর্তীতে ১৯৯১ সালে তিনি ঢাকার "বাংলাদেশ ইসলামী মহিলা বিদ্যালয়"-এ (বর্তমান মিরপুর সরকারি মহিলা কলেজ) যোগদান করেন। দীর্ঘ ৩৩ বছরের বর্ণাঢ্য ও আদর্শিক শিক্ষকতা জীবন শেষে ২০২২ সালে তিনি সসম্মানে অবসর গ্রহণ করেন।
রাজনৈতিক জীবন
নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত অবস্থাতেই মজলুম জননেতা শফিউল আলম প্রধানের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে তিনি "ছাত্রলীগ (প্রধান)"-এর রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। বিদ্যালয়ে ছাত্ররাজনীতির আনুষ্ঠানিক অনুমতি না থাকলেও কৈশোরেই রাজপথের রাজনীতিতে তাঁর সাহসী পদচারণা শুরু হয়।
১৯৮০ সালে জাগপা প্রতিষ্ঠিত হলে তিনি সেতাবগঞ্জ কলেজে ছাত্রলীগের (বর্তমান জাগপা ছাত্রকাফেলা) দায়িত্ব গ্রহণ করেন। ১৯৮২ থেকে ১৯৮৭ সাল পর্যন্ত তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় জাগপা ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেন এবং ঐ সময়ে রাকসু (RUCSU) নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করেন।
৯০-এর দশকে তিনি জাগপার কেন্দ্রীয় কমিটিতে সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। তৃণমূল থেকে উঠে আসা এই নেতা নিজ যোগ্যতা ও দলের প্রতি একাগ্রতার কারণে বর্তমানে সাধারণ সম্পাদকের মতো গুরুদায়িত্ব পালন করছেন।
আন্দোলন ও সংগ্রাম
স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে জাতীয় প্রতিটি সংকটে অধ্যাপক ইকবাল হোসেন রাজপথে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। তিনি যেসব ঐতিহাসিক আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য: দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা, তিনবিঘা করিডোর ও বেরুবাড়ি লংমার্চ, সীমান্ত হত্যা ও টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী আন্দোলন, দেশবিরোধী ট্রানজিট ও করিডোর প্রদান চুক্তির বিরোধিতা, পিলখানা সেনা হত্যার প্রতিবাদ এবং ঐতিহাসিক ইয়াসমিন হত্যা আন্দোলন, বিগত ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী দুর্বার আন্দোলন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান।
ব্যক্তিজীবনে একজন আদর্শবান শিক্ষক এবং রাজনৈতিক জীবনে একজন আপোষহীন নেতা হিসেবে অধ্যাপক ইকবাল হোসেন জাগপার নেতাকর্মীদের কাছে এক অনন্য অনুপ্রেরণার নাম।