logo
জাগপা
সহ-সভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র

রাশেদ প্রধান

ইনসাফের বাংলাদেশ গঠনে সার্বভৌমত্বের মশালবাহক রাশেদ প্রধান। বাংলাদেশের সমকালীন রাজনীতিতে জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং আধিপত্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের এক আপসহীন কণ্ঠস্বর রাশেদ প্রধান। তিনি বর্তমানে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি এবং দলের মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। একটি ঐতিহ্যবাহী দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক পরিবারের সন্তান হিসেবে তিনি ফ্যাসিস্ট হাসিনাবিরোধী আন্দোলন, ২০২৪ সালের ঐতিহাসিক ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান এবং তৎপরবর্তী ২০২৫-২০২৬ সালের রাজনৈতিক উত্তরণ পর্বে রাজপথে সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। নীতিগত ও ত্যাগের রাজনীতি তাঁকে দেশের সমকালীন রাজনীতির অন্যতম চালিকাশক্তিতে পরিণত করেছে।

জন্ম ও পারিবারিক ঐতিহ্য

রাশেদ প্রধান ১৯৮৪ সালের ১৬ অক্টোবর রাজধানী ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের টোকরাভাষা গ্রামের প্রধানপাড়ায়। পঞ্চগড় তথা সমগ্র উত্তরবঙ্গের রাজনীতিতে তাঁর পরিবারের শেকড় অত্যন্ত গভীর।
• দাদা: মরহুম মৌলভী গমির উদ্দিন প্রধান (১৯১৮–১৯৮১) ছিলেন ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত জলপাইগুড়ি জেলা বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান এবং দেশভাগের পর পাকিস্তান মুসলিম লীগের সভাপতি। তিনি পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ডেপুটি স্পিকার ও স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ মুসলিম লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
• পিতা: মরহুম শফিউল আলম প্রধান (১৯৪৯–২০১৭) ছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশে আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের অগ্রনায়ক। শফিউল আলম প্রধান ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিগর্ভ থেকে উঠে আসা এক দূরদর্শী নেতা। তিনি ১৯৮০ সালে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) প্রতিষ্ঠা করেন।
• মাতা: মরহুমা অধ্যাপিকা রেহানা প্রধান (১৯৫৫–২০১৮) ছিলেন একাধারে একজন প্রথিতযশা শিক্ষাবিদ, বীর নারী মুক্তিযোদ্ধা এবং জাগপার দ্বিতীয় সভাপতি।
• বড় বোন: ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান জাগপার বর্তমান সভাপতি, সুপ্রিম কোর্টের বিশিষ্ট আইনজীবী এবং ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য।

শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন

রাজধানী ঢাকার আসাদগেটে বেড়ে ওঠা রাশেদ প্রধান ২০০২ সালে গবর্নমেন্ট ল্যাবরেটরি হাই স্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০০৪ সালে আইডিয়াল কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ২০০৫ সালে তিনি মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমান এবং ‘লিমককউইং ইউনিভার্সিটি অব ক্রিয়েটিভ টেকনোলজি’ থেকে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ শেষে ২০১০ সালে দেশে ফিরে আসেন।
২০১১ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত দেশের দুটি শীর্ষস্থানীয় বিজ্ঞাপনী সংস্থায় চাকরির মাধ্যমে অভিজ্ঞতা অর্জন করে ২০১৪ সালে তিনি নিজের বিজ্ঞাপনী সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন। একই সঙ্গে মাটির টানে এবং কৃষির প্রতি ভালোবাসা থেকে তিনি নিজ গ্রামে মৎস্য চাষ ও কৃষিজ পণ্য উৎপাদনের সাথে জড়িত আছেন।

ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবন

রাশেদ প্রধানের সহধর্মিণী সৈয়দা নাফিসা রেজা (বর্ষা) দেশের তথ্যপ্রযুক্তি (ICT) খাতের একজন নারী উদ্যোক্তা। তিনি করপোরেট প্রতিষ্ঠান 'গ্রুপডট'-এর চেয়ারম্যান এবং 'ডিজিডট লিমিটেড'-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও তিনি তথ্যপ্রযুক্তি খাতের শীর্ষ সংগঠন 'বেসিস' (BASIS)-এর কাজের সাথে জড়িত।
ব্যক্তিগত জীবনে রাশেদ-নাফিসা দম্পতি দুই পুত্রসন্তান, রিহান প্রধান এবং রাদিন প্রধানের পিতা-মাতা।

রাজনৈতিক হাতেখড়ি ও সাংগঠনিক নেতৃত্ব

ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে জন্ম নেওয়ায় রাশেদ প্রধানের শৈশব থেকেই দেশপ্রেমের রাজনৈতিক আদর্শে দীক্ষা ঘটে। মাত্র ৮ বছর বয়সে, ১৯৯২ সালে পিতা-মাতার সাথে জাগপা ঘোষিত ঐতিহাসিক বেরুবাড়ি লংমার্চে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে মিছিলের সম্মুখে থেকে দলীয় পতাকা বহন করার মাধ্যমে রাজনীতিতে তাঁর অভূতপূর্ব হাতেখড়ি হয়। ছাত্রজীবনে তিনি জাগপার ছাত্রসংগঠন 'জাগপা ছাত্রলীগের' (বর্তমান জাগপা ছাত্রকাফেলা) রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর দলের বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি জাগপার কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যপদ লাভ করেন। ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বর বিশেষ কাউন্সিলে তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ আসনে দলীয় প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৯ সালে তিনি দলের মুখপাত্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব লাভ করেন।

ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন ও গণঅভ্যুত্থান

দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটে ২০১৯ সাল থেকে রাশেদ প্রধান দলের পক্ষে বলিষ্ঠ প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০-দলীয় জোট ঘোষিত ফ্যাসিবাদবিরোধী সকল কর্মসূচিতে তিনি জোরালো ভূমিকা রেখেছেন। ২০২২ সালে ২০-দলীয় জোট বিলুপ্ত হলে, তৎকালীন ফ্যাসিবাদবিরোধী যুগপৎ আন্দোলনকে বেগবান করতে জাগপা ১২-দলীয় জোটে অন্তর্ভুক্ত হয় এবং রাশেদ প্রধান এই জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা হিসেবে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপিসহ যুগপৎ আন্দোলনের সকল দল ও জোটের ওপর আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী ও প্রশাসনের হামলায় পল্টনের যুদ্ধক্ষেত্রে যখন কোনো নেতাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না, ঠিক সেই সময় পল্টনের রাজপথে রাশেদ প্রধানের নেতৃত্বে জাগপা প্রতিবাদ মিছিল করে।
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত একতরফা ও বিতর্কিত আমি-ডামি নির্বাচন বর্জনের লক্ষ্যে আয়োজিত সকল গণসংযোগ ও প্রতিবাদী কর্মসূচিতে রাশেদ প্রধান ঢাকার রাজপথে সম্মুখসারিতে থেকে নেতৃত্ব দেন। ৭ জানুয়ারি নির্বাচন চলাকালীন পল্টন-প্রেস ক্লাব অঞ্চলে তিনি প্রতিবাদ মিছিল করেন এবং ৮ জানুয়ারি ২০২৪ তারিখে বাংলাদেশের প্রথম রাজনৈতিক দল হিসেবে জাগপা তাঁর নেতৃত্বেই আমি-ডামি নির্বাচনের প্রতিবাদে রাজপথে 'কালো পতাকা উত্তোলন' কর্মসূচি পালন করে।
জুলাইয়ের ঐতিহাসিক কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়, ১৫ জুলাই ২০২৪ তারিখে তৎকালীন স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উস্কানিমূলক বক্তব্যের প্রতিবাদে ঢাকায় তীব্র মানববন্ধন ও রাজপথ অবরোধ কর্মসূচি গড়ে তোলেন। ১৬ জুলাই আবু সাইদ-ওয়াসিমদের হত্যার খবর পেয়ে তার পরের দিন ১৭ জুলাই দলীয় ব্যানারে রাজপথে নেমে আসেন। ২ থেকে ৫ আগস্ট ২০২৪ পর্যন্ত সর্বাত্মক গণঅভ্যুত্থানের চূড়ান্ত পর্বে ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়ে জীবন বাজি রেখে স্বৈরাচার পতনের আন্দোলনে সক্রিয় অংশ নেন।

আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রাম

মজলুমদের পক্ষে সর্বদাই এক বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বরের নাম রাশেদ প্রধান। আধিপত্যবাদ, উগ্র হিন্দুত্ববাদ, সাম্রাজ্যবাদ কিংবা জায়নবাদসহ সকল আগ্রাসী শক্তির বিরুদ্ধে তিনি নির্ভয়ে কথা বলেন। স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যেসব আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
১. খয়খাটপাড়া সীমান্ত অভিমুখে গণমিছিল: পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার সীমান্তে ভারতীয় বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি নাগরিক নিহত হওয়ার প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ১১ মে তিনি খয়খাটপাড়া সীমান্ত অভিমুখে গণমিছিল করেন।
২. ভারতীয় পণ্য বর্জন আন্দোলন: ২ জুন ২০২৪ তারিখে ভারতীয় আগ্রাসনের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী ভারতীয় পণ্য বর্জনের (Boycott India) আন্দোলনে রাজপথে লিফলেট বিতরণ ও বিক্ষোভ মিছিলে তিনি নেতৃত্ব দেন।
৩. ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদ ও কুশপুত্তলিকা দাহ: অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশিদের উল্টো ঝুলিয়ে রাখার হুমকি ও ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের প্রতিবাদে ২০২৪ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর বিক্ষোভ মিছিল এবং ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিজেপি নেতা অমিত শাহের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন তিনি।
৪. কালচারাল ফ্যাসিস্টদের নামের তালিকা প্রকাশ: ৪ জুলাই ২০২৫ তারিখে তিনি ভারতীয় ‘র’-এর নির্দেশনায় পরিচালিত কালচারাল ফ্যাসিস্ট ও আওয়ামীপন্থী মিডিয়া ডনদের নামের তালিকা প্রকাশ করেন।
৫. ইসরায়েলি জায়নবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: ফিলিস্তিনের গাজায় মানবতাবিরোধী গণহত্যার প্রতিবাদে ইসরায়েলি জায়নবাদের বিরুদ্ধে ৭ এপ্রিল ২০২৫ বিশ্বব্যাপী ধর্মঘট (Global Strike for Gaza) কর্মসূচির পক্ষে সংহতি জানিয়ে রাজধানী ঢাকায় কর্মসূচি পালন করেন। এছাড়া ১২ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে ‘মার্চ ফর গাজা’ কর্মসূচি পালন করেন।
৬. ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সারা দেশে লিফলেট বিতরণ: ২০২৫ সালের পুরো জুলাই মাসজুড়ে রাশেদ প্রধানের নেতৃত্বে জাগপা নেতৃবৃন্দ সারা দেশে লিফলেট বিতরণ করেন। লিফলেটে সীমান্ত হত্যা, ভূমি দখল, অবৈধ পুশ-ইন, পানির ন্যায্য হিস্যা না দেওয়া, দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় ও নির্বাচনে হস্তক্ষেপসহ নানাবিধ বিষয়ে ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে জনগণকে সচেতন করা হয়।
৭. ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও: গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাকে ১ বছর ধরে ভারতে আশ্রয় প্রদান করার প্রতিবাদে এবং খুনি হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবিতে ২০২৫ সালের ৬ আগস্ট তিনি ভারতীয় দূতাবাস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেন।
৮. নরেন্দ্র মোদিকে প্রতিবাদপত্র: ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং খুনি হাসিনাকে ফেরত দেওয়ার দাবিতে তিনি ২০২৫ সালের ১৩ আগস্ট ভারতীয় দূতাবাসের মাধ্যমে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে প্রতিবাদপত্র পাঠান।
৯. ঐতিহাসিক কালো গোলাপ পদযাত্রা: ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ১৯ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদী। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে এবং সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে ২১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে রাশেদ প্রধান এক অভিনব "একক পদযাত্রা" শুরু করেন। পল্টনে ওসমান হাদীর রক্তভেজা স্থান থেকে গুলশানে অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস অভিমুখে ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই একক পদযাত্রায় তিনি আগ্রাসন ও প্রতিরোধের প্রতীক হিসেবে একটি "কালো গোলাপ" বহন করেন। যাত্রাপথে অসংখ্য দেশপ্রেমিক জনগণ তাঁর সাথে সংযুক্ত হয়। বাড্ডা লিংক রোড এলাকায় পুলিশ তাঁর পথরোধ করলেও এই কর্মসূচি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়।
১০. আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ: ২০২৬ সালে ইরানে বর্বরোচিত হামলার প্রতিবাদে আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে তিনি প্রতিবাদ করেন এবং ঢাকার রাজপথে একাধিক কর্মসূচির মাধ্যমে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করেন।

জোট পরিবর্তন ও ১১-দলীয় রাজনৈতিক ঐক্য

২০২৫ সালের ১৯ জুলাই ঢাকা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহাসমাবেশে যোগদান করে রাশেদ প্রধান ফ্যাসিস্ট হাসিনা-পরবর্তী বাংলাদেশে বিএনপির লুটপাট ও চাঁদাবাজির নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান। এর জেরে তৎকালীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন ১২-দলীয় জোট থেকে জাগপাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
তবে তিনি দমে না গিয়ে রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে 'জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ' জারিসহ ৫ দফা দাবিতে জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামী ও দেশপ্রেমিক ৮ দলের যুগপৎ কর্মসূচিতে সংহতি জানান। পরবর্তীতে আসন সমঝোতা এবং সংস্কারের লক্ষ্যকে সুসংহত করতে তাঁর নেতৃত্বে জাগপা রাজনৈতিক মোর্চা "১১-দলীয় নির্বাচনী ও রাজনৈতিক ঐক্যে" শামিল হয়।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০২৬) ও ত্যাগের বিরল দৃষ্টান্ত

২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১১-দলীয় নির্বাচনী ঐক্য "ওয়ান বক্স পলিসি" (প্রতিটি আসনে একক প্রার্থী) নীতি গ্রহণ করে। এই নির্বাচনে পঞ্চগড়-১ ও পঞ্চগড়-২ আসনে রাশেদ প্রধানের প্রার্থিতা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বৈধ ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু জোটের বৃহত্তর ঐক্য ও রাজনৈতিক সংহতি বজায় রাখার প্রশ্নে তিনি পঞ্চগড়-১ আসন এনসিপি এবং পঞ্চগড়-২ আসন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে ছেড়ে দিয়ে এক বিরল ত্যাগ ও রাজনৈতিক পরিপক্বতার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন।
নিজে নির্বাচন না করেও তিনি ১১-দলীয় ঐক্যের নির্বাচনী প্রচারণায় সারা দেশে নিজেকে নিয়োজিত করেন। নির্বাচন কমিশন কর্তৃক বরাদ্দকৃত প্রচারণার মাত্র ১৯ দিনে তিনি দেশের ৮টি বিভাগের ২৭টি জেলায় ১৩৮ জন প্রার্থীর পক্ষে ঝোড়ো প্রচারণা চালান।

রাজনৈতিক নিগ্রহ ও সহনশীল নেতৃত্ব

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে ১৫ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে এক রাজনৈতিক গোলটেবিল বৈঠকে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করেন রাশেদ প্রধান। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ক্ষমতাসীন দলের কিছু উগ্র সমর্থকগোষ্ঠী রাশেদ প্রধানের ঢাকার বাসভবনে হামলা চালায় এবং পঞ্চগড় জেলা জাগপা কার্যালয় ভাঙচুর করে। তবে দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতির অন্যতম সহনশীল ও পরিপক্ব নেতা হিসেবে রাশেদ প্রধান রাজপথের সহিংসতা এড়াতে অত্যন্ত ধৈর্যের সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করেন।
রাশেদ প্রধান ক্ষমতার মোহমুক্ত থেকে দেশ ও মানুষের অধিকার আদায়ের নীতিগত রাজনীতি করছেন। ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী বাংলাদেশে জুলাই সনদ বাস্তবায়নে গড়িমসির বিরুদ্ধেও তিনি দেশব্যাপী সোচ্চার ভূমিকা পালন করে চলেছেন। ক্ষমতার অংশীদার হওয়ার চেয়ে নীতিগত রাজনীতির বিকাশ ঘটানোই তাঁর মূল লক্ষ্য।