বাংলাদেশের উত্তর-উপনিবেশিক রাজনৈতিক ইতিহাসে যে কয়েকজন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ক্ষমতার বৃত্তের বাইরে থেকে নিজেদের আদর্শিক অবস্থান এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে আজীবন আপসহীন ছিলেন, শফিউল আলম প্রধান তাঁদের মধ্যে অন্যতম। ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান এবং একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের অগ্নিগর্ভ থেকে উঠে আসা এই দূরদর্শী নেতা স্বাধীন বাংলাদেশে শাসকগোষ্ঠীর অভ্যন্তরীণ দুর্নীতি ও প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আধিপত্যবাদী নীতির বিরুদ্ধে এক বজ্রকণ্ঠ হিসেবে আবির্ভূত হন।
প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি
শফিউল আলম প্রধান
জন্ম ও পারিবারিক পটভূমি
শফিউল আলম প্রধান ১৯৪৯ সালের ১ জানুয়ারি তৎকালীন পাকিস্তান অধিরাজ্যের পূর্ববঙ্গের দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমার টোকরাভাষা গ্রামে (বর্তমান পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের প্রধান পাড়ায়) একটি রাজনৈতিকভাবে সচেতন, ঐতিহ্যবাহী মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন।
তাঁর পিতা মৌলভী গমির উদ্দিন প্রধান ছিলেন ব্রিটিশ ভারত ও পাকিস্তান আমলের এক প্রথিতযশা আইনজীবী ও প্রবীণ রাজনীতিবিদ। তিনি অবিভক্ত পাকিস্তান মুসলিম লীগের সভাপতি, ১৯৬২ সালে পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের ডেপুটি স্পিকার এবং ১৯৬৮ থেকে ১৯৬৯ সাল পর্যন্ত স্পিকারের মতো গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তাঁর মাতা ছিলেন বিশিষ্ট সমাজসেবিকা শামসুন নাহার প্রধান।
শিক্ষাজীবন ও ছাত্ররাজনীতিতে হাতেখড়ি
শফিউল আলম প্রধানের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষাজীবন শুরু হয় ঢাকায়। ঢাকার ঐতিহ্যবাহী সিদ্ধেশ্বরী বালক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন সম্পন্ন করার পর তিনি শেখ বোরহানুদ্দীন পোস্ট গ্রাজুয়েট কলেজে ভর্তি হন। এই কলেজে অধ্যয়নকালেই তিনি সক্রিয়ভাবে ছাত্ররাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন এবং কলেজ ছাত্র সংসদের স্বতন্ত্র সাধারণ সম্পাদক (জিএস) নির্বাচিত হন।
উচ্চ মাধ্যমিকের গণ্ডি পেরিয়ে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র হিসেবে তিনি তৎকালীন ছাত্র আন্দোলনের অগ্রভাগে চলে আসেন এবং সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের নির্বাচিত সহ-সভাপতি (ভিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন
ষাটের দশকের শেষভাগে পূর্ব পাকিস্তানে স্বৈরাচারী আইয়ুব বিরোধী আন্দোলন যখন তুঙ্গে, তখন শফিউল আলম প্রধান তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান ছাত্রলীগের একজন লড়াকু ছাত্রনেতা হিসেবে আবির্ভূত হন এবং ১৯৬৯ সালের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা রাখেন।
১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন এবং ১৯৭১ সালের অসহযোগ আন্দোলনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সিদ্ধান্তসমূহ বাস্তবায়নে রাজপথে সক্রিয় ছিলেন।
১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ, পাকিস্তান দিবসে কোতোয়ালি থানায় পাকিস্তানের পতাকা নামিয়ে পরাধীন বাংলার দিনাজপুরে প্রথম স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন করেন শফিউল আলম প্রধান, যা ছিল তাঁর বিপ্লবী মানসিকতার এক সাহসী বহিঃপ্রকাশ। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মহান মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে তিনি একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উত্তরবঙ্গ অঞ্চলে সম্মুখ সমরে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
স্বাধীন বাংলাদেশে ছাত্র নেতৃত্ব ও ঐতিহাসিক "শ্বেতপত্র" প্রকাশ
দেশ স্বাধীন হওয়ার পর শফিউল আলম প্রধান বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় গ্রন্থনা ও প্রকাশনা সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব সফলভাবে পালনের পর, ১৯৭৩ সালে সংগঠনের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।
যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশে শাসকগোষ্ঠীর নব্য লুণ্ঠন, চোরাচালান ও কালোবাজারির বিরুদ্ধে তিনি বৈপ্লবিক অবস্থান নেন। ১৯৭৪ সালের ৩০ মার্চ শফিউল আলম প্রধান ঢাকা বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত এক বিশাল ছাত্র সমাবেশে নিজেদের সমর্থিত আওয়ামী লীগ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি তৎকালীন সরকারের মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যসহ ক্ষমতাসীন দলের ৬৪ জন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তির একটি সুনির্দিষ্ট তালিকা বা "শ্বেতপত্র" প্রকাশ করেন। এই নৈতিক সাহস তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর সাথে তাঁর প্রকাশ্য দ্বন্দ্বের সৃষ্টি করে।
মুহসীন হলের রাজনৈতিক হত্যাকাণ্ড ও কারাজীবন
দুর্নীতিবিরোধী তালিকা প্রকাশের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায়, ১৯৭৪ সালের ৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হাজী মুহম্মদ মুহসীন হলে সাতজন ছাত্রকে নৃশংসভাবে ব্রাশফায়ার করে হত্যা করা হয়, যা "সেভেন মার্ডার" নামে পরিচিত।
এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দ্রুত বদলে যায়। শ্বেতপত্র প্রকাশের প্রতিশোধ নিতে ও দুর্নীতি ঢাকার উদ্দেশ্যে তৎকালীন শাসকগোষ্ঠী শফিউল আলম প্রধানকে রাজনৈতিকভাবে বলির পাঁঠা বানানোর লক্ষ্যে ৮ এপ্রিল প্রধান আসামি করে গ্রেপ্তার করে। তৎকালীন বিশেষ ট্রাইব্যুনালে তড়িঘড়ি করে এই মামলার বিচার সম্পন্ন করে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের ঐতিহাসিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে। বাকশাল পতনের পর ক্ষমতা পরিবর্তনে মামলাটির পুনঃতদন্ত করা হয় এবং আদালতের মাধ্যমে তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণিত হন। অতঃপর ১৯৭৮ সালে দীর্ঘ ৪ বছর পর তিনি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।
জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) গঠন ও নেতৃত্ব
কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে শফিউল আলম প্রধান ক্ষমতার বৃত্তে না জড়িয়ে একটি নতুন আদর্শিক রাজনৈতিক ধারা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন। এই চিন্তার ফসল হিসেবে ১৯৮০ সালের ৬ এপ্রিল ঢাকার রমনার সবুজ চত্বরে (রমনা গ্রীন) এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি "জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি" (জাগপা) প্রতিষ্ঠা করেন।
জাগপার মূল রাজনৈতিক দর্শনের কেন্দ্রে ছিল বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ, ইসলামি মূল্যবোধ এবং যেকোনো ধরনের আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন গণতান্ত্রিক চেতনা। ১৯৮০ সাল থেকে ২০১৭ সালে মৃত্যুর পূর্বপর্যন্ত তিনি দলটির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
আধিপত্যবাদ ও আগ্রাসন বিরোধী দীর্ঘস্থায়ী সংগ্রাম
বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে শফিউল আলম প্রধানের সবচেয়ে বড় পরিচয় ছিল "ভারতীয় আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলনের অগ্নিপুরুষ" হিসেবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার অতন্দ্র প্রহরী হিসেবে তিনি স্রোতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে যেসব ঐতিহাসিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন, তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য:
১. দহগ্রাম-আঙ্গরপোতা, তিনবিঘা করিডোর ও বেরুবাড়ি লংমার্চ: ছিটমহলের জনগণের অবাধ যাতায়াতের অধিকার এবং করিডোর চিরস্থায়ী ইজারা আদায়ের দাবিতে তিনি উত্তরবঙ্গে হাজার হাজার মানুষকে সাথে নিয়ে ঐতিহাসিক লংমার্চ করেন।
২. ফারাক্কা ও তিস্তা পানি বণ্টন আন্দোলন: ভারতের একতরফা পানি প্রত্যাহারের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক আন্দোলন ও সীমান্ত অভিমুখে ফারাক্কা লংমার্চের নেতৃত্ব দেন।
৩. সীমান্ত হত্যা ও টিপাইমুখ বাঁধ বিরোধী আন্দোলন: ভারতীয় বিএসএফ কর্তৃক কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা কিশোরী ফেলানীসহ নির্বিচারে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যার তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং টিপাইমুখ বাঁধের পরিবেশগত বিপর্যয়ের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে জনমত গড়ে তোলেন।
৪. ট্রানজিট ও করিডোর বিরোধিতা: ভারতকে একতরফা ট্রানজিট সুবিধা প্রদান এবং বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ব্যবহারের অনুমতির বিরুদ্ধে তিনি আমৃত্যু সোচ্চার ছিলেন।
৫. পিলখানা গণহত্যার প্রতিবাদ: পিলখানা হত্যাকাণ্ডের পেছনে দেশীয় ও ভারতীয় আধিপত্যবাদী ষড়যন্ত্রের দাবি তুলে তিনি দেশজুড়ে তীব্র জনমত গড়ে তোলেন।
এছাড়াও বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এবং রাজনীতিতে দিল্লির নগ্ন হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে শফিউল আলম প্রধান সর্বদা রাজপথে সোচ্চার ছিলেন এবং একাধিকবার ভারতীয় হাই কমিশন ঘেরাও করেছিলেন। শুধুমাত্র ভারতীয় আধিপত্যবাদই নয়, দেশপ্রেমিক এই নেতা মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ এবং ইসরাইলি জায়নবাদের বিরুদ্ধেও একাধিক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন। বিশ্বের যেকোনো মজলুম মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর যখনই কোনো অন্যায়-অবিচার হয়েছে, তখনই প্রতিবাদের ভাষায় গর্জে উঠতেন শফিউল আলম প্রধান।
ঐতিহাসিক ইয়াসমিন হত্যা আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন শফিউল আলম প্রধান। দেশের গণতন্ত্রের জন্য এবং অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ইনসাফ কায়েমের জন্য মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি রাজপথে লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছিলেন।
রাজনৈতিক জোট
শফিউল আলম প্রধানের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং জোট গঠনের ক্ষমতা ছিল অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ৯০-এর দশকে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে গঠিত ৭-দলীয় জোটে তাঁর নেতৃত্বে জাগপা জোটবদ্ধ রাজনীতি করে।
পরবর্তীতে, আওয়ামী দুঃশাসনের বিরুদ্ধে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ৪-দলীয় জোটকে বৃহত্তর রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশনায় তা ১৮-দলীয় জোটে রূপান্তর করার মূল সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করেন শফিউল আলম প্রধান, যা পরবর্তীতে ২০-দলীয় জোটে রূপ নেয়।
কারাবরণ ও রাজনৈতিক নিগ্রহ
অন্যায় ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন ভূমিকার কারণে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি সরকারের শাসনামলেই শফিউল আলম প্রধান রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাবরণ করেছেন। তিনি তাঁর জীবদ্দশায় সর্বমোট ২৭ বার গ্রেপ্তার হন এবং জীবনের একটি দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটান, যার কারণে রাজনৈতিক অঙ্গনে তাঁকে রাজপথের এক নির্ভীক সিংহপুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হতো।
এমনকি বায়তুল মোকাররম এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ করার একতরফা স্বৈরাচারী সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এই মজলুম জননেতা স্বশরীরে মাঠে নেমে "স্বেচ্ছায় কারাবরণ" কর্মসূচি পালন করেছিলেন।
ইন্তেকাল
বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ক্ষমতার লোভ-লালসা বা মন্ত্রী-এমপি হওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায়ে ঠেলে তিনি আজীবন রাজপথের লড়াকু সৈনিক হিসেবে বেঁচে থাকাকেই শ্রেয় মনে করেছিলেন। তাঁর দুর্নীতিবিরোধী চেতনা এবং ভৌগোলিক স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখার প্রশ্নে আপসহীন কণ্ঠস্বর এদেশের জাতীয়তাবাদী ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিনশ্বর আলোকবর্তিকা হিসেবে চিরকাল প্রজ্বলিত থাকবে।
২০১৭ সালের ২১ মে ভোর সাড়ে ৬টায় ঢাকার আসাদগেটের নিজ বাসভবনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে এই বীর মুক্তিযোদ্ধা ও আপসহীন দেশপ্রেমিক ইন্তেকাল করেন।
তাঁর বিদায়ের পর দেশজুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। আসাদগেটে বাদ জোহর প্রথম জানাজার পর, ওই দিনই দিনাজপুরে বাদ মাগরিব দ্বিতীয় জানাজা এবং পঞ্চগড়ে বাদ এশা তৃতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরদিন ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে বাদ আসর চতুর্থ জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে তাঁর পিতার কবরের পাশে এই মহান নেতাকে সমাহিত করা হয়।