logo
জাগপা
সভাপতি

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান বাংলাদেশের একজন বিশিষ্ট আইনজীবী এবং জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) বর্তমান সভাপতি। তিনি জাগপার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, মজলুম জননেতা শফিউল আলম প্রধানের সুযোগ্য উত্তরসূরি। ২০১৮ সালের ৯ নভেম্বর থেকে তিনি দলের কাউন্সিলর ও ডেলিগেটবৃন্দের সর্বসম্মতিক্রমে সভাপতির দায়িত্ব পালন করে আসছেন। এর পূর্বে তিনি দলটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং সহ-সভাপতির দায়িত্বও অত্যন্ত দক্ষতার সাথে পালন করেছেন।

জন্ম ও পৈতৃক নিবাস

তাসমিয়া ১৯৭৯ সালে বগুড়ায় তাঁর নানার বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পৈতৃক নিবাস পঞ্চগড় জেলার দেবীগঞ্জ উপজেলার চিলাহাটি ইউনিয়নের টোকরাভাষা গ্রামে।

শিক্ষা ও চ্যান্সেরি জীবন (বার এট ল')

ঢাকায় বেড়ে ওঠা তাসমিয়া প্রধান ১৯৯৬ সালে মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৮ সালে ঐতিহ্যবাহী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। এরপর তিনি ভূঁইয়া একাডেমি থেকে এ-লেভেল সম্পন্ন করে উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যে (ব্রিটেন) গমন করেন।
তিনি ২০০৪ সালে লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন বিষয়ে সম্মানসহ স্নাতক (LLB) ডিগ্রি লাভ করেন। অতঃপর সিটি ইউনিভার্সিটি লন্ডন (সিটি সেন্ট জর্জ’স) থেকে ‘বার ভোকেশনাল কোর্স’ সম্পন্ন করেন এবং ২০০৬ সালে ঐতিহ্যবাহী সোসাইটি অব লিংকনস ইন থেকে ‘বার এট ল’ (ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস) ডিগ্রি অর্জন করে ব্যারিস্টার হন।

পেশাদার আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন

২০০৭ সালে যুক্তরাজ্য থেকে ব্যারিস্টার হয়ে দেশে ফিরে তিনি "ডক্টর হামিদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস"-এ যোগদানের মাধ্যমে পেশাজীবন শুরু করেন। সেখানে এক বছর কাজ করার পর ২০০৯ সালে তিনি প্রখ্যাত আইনজীবী মওদুদ আহমদ অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটসে যোগ দেন এবং সেখানে দীর্ঘ ছয় বছর সুনামের সাথে কর্মরত ছিলেন।
এরই মধ্যে ২০০৮ সালে তিনি বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের সদস্য হন এবং ২০১০ সালে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের আইনজীবী হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হন। ২০২৫ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে নিয়োজিত হয়ে বর্তমানে তিনি সুপ্রিম কোর্টের একজন নিয়মিত ও প্রথিতযশা আইনজীবী এবং নিজের প্রতিষ্ঠিত ল’ চেম্বার ‘তাসমিয়া প্রধান অ্যান্ড অ্যাসোসিয়েটস’-এর প্রধান হিসেবে কর্মরত আছেন।

রাজনৈতিক জীবন ও জাগপার নেতৃত্ব

পারিবারিক ঐতিহ্যের সূত্র ধরে ছাত্রজীবনেই তাসমিয়া প্রধান জাগপা ছাত্রলীগের (বর্তমান জাগপা ছাত্রকাফেলা) রাজনীতির সাথে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়েন। দেশপ্রেমের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে মাত্র ১৩ বছর বয়সে তিনি ভারতীয় সীমান্ত অভিমুখে ঐতিহাসিক বেরুবাড়ি লং মার্চের অগ্রভাগে থেকে জাতীয় পতাকা বহন করেছিলেন। ২০১০ থেকে ২০১৭ দীর্ঘ ৭ বছর তিনি জাগপা প্রতিষ্ঠাতা শফিউল আলম প্রধানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও সাংগঠনিক দক্ষতার পাঠ নেন।
২০১৭ সালের ২৮ নভেম্বর দলের বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি জাগপার কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০১৮ সালের ২২ অক্টোবর তৎকালীন সভাপতি অধ্যাপিকা রেহানা প্রধানের মৃত্যুর পর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব নেন। একই বছরের ৯ নভেম্বর বিশেষ কাউন্সিলের মাধ্যমে তিনি সভাপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পঞ্চগড়-২ আসন থেকে দলীয় প্রতীকে সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। ২০১৯ সালের দলীয় কাউন্সিলে কাউন্সিলরদের সর্বসম্মত সিদ্ধান্তে তিনি জাগপা সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হন।

আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক সাফল্য

২০২১ সালে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন রাজনৈতিক দল হিসেবে জাগপার নিবন্ধন বাতিল করলে, ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান দলের প্রধান আইনজীবী হিসেবে হাইকোর্টে এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে রিট পিটিশন দায়ের করেন। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর ২০২৫ সালে মহামান্য হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের ওই সিদ্ধান্তকে অবৈধ ঘোষণা করে জাগপার নিবন্ধন পুনর্বহাল করেন, যা তাঁর আইনি ও রাজনৈতিক জীবনের একটি ঐতিহাসিক বিজয়।
২০২৬ সালে অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য ‘এগারো দলীয় ঐক্য’ থেকে ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধানকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তাঁর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার পর, তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদ সদস্য (এমপি) নির্বাচিত হন।

পারিবারিক জীবন

ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান ২০০১ সালে এস বি এ সিদ্দিকীর সাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এস বি এ সিদ্দিকী এবং ব্যারিস্টার তাসমিয়া প্রধান, তিন কন্যা সন্তানের গর্বিত পিতা-মাতা।